সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিনটি উপজেলার পাঁচটি গ্রামের কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্য অনুসারে তারা প্রতিবছর এক দিন আগেই ঈদ পালন করে থাকেন।
জানা গেছে, বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচটি গ্রামের দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এ উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ৮টায় পৃথক পৃথক জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। জেলার ১০টি মসজিদে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
যে পাঁচ গ্রামে আগামীকাল ঈদ উদযাপিত হবে সেগুলো হলো— নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়ণপুর, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাদেরিয়া তরিকার সূচনা হয়। এই তরিকার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা শুরু ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, এই রীতিই তাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ।
বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী মো. সিরাজ মিয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ অনুসরণ করি। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই আমরা রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। এ বছরও আমরা সেই ধারা বজায় রাখছি।’
এদিকে, ঈদ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিন উপজেলার পাঁচটি গ্রামের দুই শতাধিক মুসল্লি আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। তাদের ঈদ উদযাপন যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


