আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠকের পর গত সোমবার আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ভেনেসা ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন ক্যাপ্টেন কিবরিয়া। এসব বৈঠকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং মানবিক সংকট নিরসনে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে ক্যাপ্টেন কিবরিয়া বলেন, “বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই। শিশু হত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এসব বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সমন্বয়ে চলমান বৈশ্বিক অভিযানের তিনটি প্রধান লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি:
-
শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা।
-
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুদ্ধের আওতামুক্ত রাখা।
-
দ্রুত ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
ক্যাপ্টেন কিবরিয়া আরও জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শক্তিশালী জোট গঠনের কাজ চলছে। এর লক্ষ্য হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ ধরনের নৃশংসতার মুখে নীরব থাকা নিরপেক্ষতা নয়; বরং তা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ (আইসিসি) প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ক্যাপ্টেন কিবরিয়া আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকটের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব শিগগিরই শান্তির পথে ফিরে আসবে।


